আমাদের ভারত, ১৬ জানুয়ারি: মাত্র কয়েকজন ধন কুবেরের হাতেই গচ্ছিত রয়েছে ভারতের বিপুল সম্পত্তি। অন্যদিকে দেশের দরিদ্র জনতা যারা আর্থিকভাবে সবচেয়ে নিচের সারিতে রয়েছে তাদের হাতে ভারতের সম্পদের মাত্র তিন শতাংশ রয়েছে। সোমবারে প্রকাশিত একটি সমীক্ষার রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অক্সফাম নামে এক মানবাধিকার সংস্থার তরফে একটি সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দেশের ৪০ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে মাত্র এক শতাংশ ধনী ব্যক্তিদের হাতে। দেশের আর্থিক বৈষম্য কোন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে তার নিদর্শন এই সমীক্ষার রিপোর্ট বলে ধরা হচ্ছে।সমীক্ষায় আরো বলা হয়েছে, ভারতের ধ্বনিতম ব্যক্তি গৌতম আদানের আয়ের উপর এককালীন কর বসালে সেই করেই প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।
দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ভারতের আর্থিক বৈষম্যের রিপোর্ট পেশ করেছে অক্সফাম। সেখানে বলা হয়েছে ভারতে চল্লিশ শতাংশ সম্পত্তি কুক্ষিগত রয়েছে দেশের ১ শতাংশ ধনকুবেরদের হাতে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা দরিদ্র মানুষের হাতে রয়েছে দেশের মাত্র তিন শতাংশ সম্পদ। মানবাধিকার সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তির আয়ের উপর যদি এককালীন ৫ শতাংশ কর বসানো যায়, তাহলে দেশের সমস্ত স্কুল ছুট পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনার খরচ উঠে আসবে।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে ২০১৭ থেকে ২০২১ এই পাঁচ বছরে গৌতম আদানীর যা আয় হয়েছে তার উপর এককালীন কর বসালেই ১.৭৯ লক্ষ কোটি টাকা উঠে আসবে। এই টাকা কাজে লাগিয়ে পাঁচ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে। সারভাইবাল অফ রিচেস্ট নামে এই রিপোর্ট শুধুমাত্র দেশের ১০ জন ধ্বনিতম ব্যক্তিদের এককালীন করে টাকায় কেন্দ্রে দুই মন্ত্রকের বাজেট অনুযায়ী বরাদ্দের টাকা উঠে আসবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার উন্নয়ন মন্ত্রক ও আয়ুস মন্ত্রকের মিলিত বাজেটের থেকে অনেক বেশি অর্থ উঠে আসবে এই এককালীন করের টাকায়।
অতিমারির সময় থেকেই ধনকুবেরদের সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে বিরাট আকারে। রিপোর্ট বলছে ১২১ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে ভারতীয় ধনকুবেরদের সম্পত্তির পরিমাণ। যার পরিমাণ প্রতিদিনে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
আর্থিক বৈষম্যের পাশাপাশি লিঙ্গবৈষম্যের কথা উঠে এসেছে এই রিপোর্টে। জানা গেছে, পুরুষদের এক টাকা আয় অনুপাতে মহিলাদের আয়ের পরিমাণ মাত্র ৬৩ পয়সা। জাতিভুক্ত আয়েও বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়, সাধারণের তুলনায় ৪৫% কম আয় করেন তপশিলি জাতিভুক্ত মানুষজন।

