রাজেন রায়, কলকাতা, ২৯ জুন: রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ন্ত্রণে রাজ্যে ভূমিকা যথেষ্ট কার্যকরী নয়। এমন অভিযোগ প্রথম থেকেই করে আসছেন বিরোধীরা। এই অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফে বিশেষ কমিটি করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু এবার জেলায় জেলায় ঘুরে পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হচ্ছে সেই মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদেরই। মঙ্গলবার কলকাতার যাদবপুরের নীল সংঘ এলাকায় আক্রান্ত হতে হয় জাতীয় মানবাধিকার কর্মীদের, এমনটাই অভিযোগ।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কোনওরকম অশান্তি না থাকায় এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি রিপোর্ট তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই কারণে তারা মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের বোঝাতে গিয়েছিলেন। পাল্টা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ করেছে তৃণমূল। দু’পক্ষের এই সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার যাদবপুরের নীলসঙ্ঘ এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসার পর্যবেক্ষণ করতে যায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল। তাদের সঙ্গে ঘরছাড়াদের একাংশও ছিলেন। কমিশনের রিপোর্টে উঠে আসে, ওই এলাকায় ৩০টির বেশি বাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয়েছে। এ নিয়ে নীলসঙ্ঘ এলাকায় কেন্দ্রীয় সদস্যদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় কিছু তৃণমূলের কর্মী। দুপুর ৩টে নাগাদ দু’পক্ষের মধ্যে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের অভিযোগ ওঠে।

এলাকার তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কিছু দুষ্কৃতী এলাকার মহিলাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছিল। হিংসার নামে তদন্ত করতে এসে তারা পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকুক। আমি শুনেছি বিজেপি-র কিছু কর্মী মহিলাদের উপর আক্রমণ করেছেন।’’
এ নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘যাদবপুরে তদন্ত করতে গিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আক্রান্ত হয়েছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে ওই এলাকায় ৪০টির বেশি বাড়ির ভাঙ্গার যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা সত্য এবং আমরাও গুণ্ডাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলাম।’’

