অন্ডালে শিশু খুনের ঘটনায় ধৃত এক মহিলা সহ ৪

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২১ জুলাই: ১৫ দিন পর অন্ডালে শিশু খুনের ঘটনায় এক মহিলা সহ চার জন ধরা পড়ল। ধৃতরা সকলেই প্রতিবেশী। ঘটনাকে ঘিরে বিস্তর শোরগোল পড়েছে এলাকায়।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম যশোদা বাউরি, উমেশ বাউরী, রোহন বাউরি ও গণেশ বাউরি। তারা অন্ডালের মাধবপুর এলাকারই বাসিন্দা। বুধবার তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে দেন। 

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই কাজোড়ার মাধবপুর কোলিয়ারী এলাকায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সৌরভ বাউরি (৭) নামে এক শিশু। পাঁচ দিন পর বাড়ির কাছাকাছি জঙ্গল থেকে শিশুটির ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সৌরভকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগে সরব হয় পরিবার ও  এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অন্ডাল থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী ও পশ্চিমবঙ্গ বাউরি সমাজ। পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে তোলেন ওই সংগঠন। তারা জাতীয় সড়ক অবরোধ সহ বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে ঘটনার বেশ কিছু সুত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ।

বুধবার রাতে মাধবপুর থেকে ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে যশোদা বাউরি, উমেশ বাউরি, রোহন বাউরি ও গণেশ বাউরি নামে একই পরিবারের চারজনকে গ্রেফতার করে। তবে খুনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার দিন সৌরভ তার সমবয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে খেলছিল। ওই সময় ধৃত যশোদা বাউরি’কে সৌরভ উত্যক্ত করছিল বলে অভিযোগ। ওই সময় রেগে গিয়ে যশোদা সৌরভকে ইট ছুঁড়ে মারে। তখন ইটের আঘাতে সৌরভ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভয় পেয়ে ওই মহিলা সৌরভকে নিজের বাড়ি নিয়ে যায় এবং শিশুটির জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পরে যখন বুঝতে পারে শিশুটি মারা গেছে, তখন তার দেহটি বাড়ির রান্না ঘরে লুকিয়ে রাখে ওই মহিলা। ৯ তারিখ রাতে সুযোগ বুঝে বস্তায় ভরে ঝোঁপের মধ্যে দেহটি ফেলে আসে এবং মৃতদেহের ওপর পোড়া মোবিল ছড়িয়ে দেয়। ওই কাজে যশোদাকে সাহায্যে করে বাকি অভিযুক্তরা। এদিন ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক ৭ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, “ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *