সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২২ এপ্রিল: ১৫ বছর বয়সের প্রতিবেশী এক কিশোরীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে এক যুবক ও ঘটনায় মদত দেওয়ার অভিযোগে এক কিশোর এবং ওই বাড়ির এক মহিলা ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গণধর্ষনের মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার চড়ুইগাছি গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা সরকার এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত। নবদ্বীপ থেকে তার বাড়িতে বেড়াতে আসে বাসুদেব বিশ্বাস ও এক কিশোর। নির্যাতিতা নাবালিকার বাবার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির কাছে একাই খেলছিল মেয়ে। এইসময় পূর্ণিমা সরকারের ছেলে অর্পণ সরকার তার মেয়েকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও মেয়ের কোনও সন্ধান না পেয়ে তিনি মেয়ের খোঁজে বের হন।

পূর্ণিমা সরকারের বাড়ির কাছে গিয়ে তিনি সেই বাড়িতে জোরে গান বাজতে শোনেন। বাড়ির সামনে তখন দাঁড়িয়েছিল পূর্ণিমা ও তার ছেলে অর্পণ। সন্দেহ বসত নাবালিকার বাবা তাদের একটি ঘরে উঁকি দিতেই দেখেন, নবদ্বীপ থেকে বেড়াতে আসা বাসুদেব নামে এক যুবক তাঁর মেয়ের মুখ চেপে ধরে অশালীন আচরণ করছে। পাশে বসে আছে এক ১৩ বছরের কিশোর। মেয়েকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আনেন বাবা। এরপর তিনি গাইঘাটা থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এক যুবক সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছেন। ধৃতদের শুক্রবার বনগাঁ আদালতে তোলা হয়।
ধর্ষিতা কিশোরীর পাশে দাঁড়ালো তৃণমূল। শুক্রবার সকালে ওই কিশোরীর বাড়িতে গেলেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি গোপাল শেঠ। তার বাবার সাথে দেখা করেন। আশ্বাস দেন দোষীদের যতদিন না শাস্তির ব্যবস্থা হচ্ছে ততদিন ওই পরিবারের পাশে থাকবেন। পরিবারটিকে কিছু আর্থিক সাহায্য করেন গোপালবাবু। যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছিল সেই বাড়ি যান তিনি।

