জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১ সেপ্টম্বর: ‘ বাংলায় দুটো মাত্র পোর্ট। জনসংখ্যা ১১ কোটি। তবুও এখন বাংলা হবে শিল্পে ১ নম্বর। ৪-৫ লক্ষ কর্ম সংস্থান হবে। দেড় লক্ষ কোটি বিনিয়োগ হবে।” বুধবার পানাগড় শিল্পতালুকে পলিফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সহ একগুচ্ছ প্রকল্পের শিল্যানাস ও উদ্বোধনে এসে এমনই আশার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব শিল্প ইথানল উৎপাদন পলিসি ও ডেটা সেন্টার পলিসি ঘোষণা করেলেন তিনি।
এদিন পানাগড় শিল্পতালুকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পলিফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তৈরীর শিলান্যাস করেন, যা আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু করবে। একই সঙ্গে পুলিশ দিবস অনুষ্ঠান পালন করেন। ওই মঞ্চ থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতা টেবিলটেনিস অ্যাকাডেমি, বোলপুরে শ্রমিক ভবন উদ্বোধন, বিসিরায় শিশু হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট, কীর্নাহার পুলিশ থানা, বান্দোয়ান, মানবাজার, বহরমপুরে এসবিএসটিসির ৩৮টি রুটে বাস পরিষেবা চালুর উদ্বোধন করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ছিল বাংলায় শিল্প ও কর্ম সংস্থানের ওপর জোর। তিনি বলেন, “রাজ্যে প্রথম নবদ্বীপ ও কোচবিহারে দুটি হেরিটেজ শহর তৈরী হচ্ছে। শিল্পের উন্নয়নের জন্য রাজ্যে ওয়ান উইন্ডোর পশ্চিমবঙ্গ প্রমোশনাল বোর্ড নামে হাইপাওয়ার কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি তার চেয়ারম্যান। প্রতিমাসে তার রিভিউ মিটিং হবে। শিল্পের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে।” তিনি বলেন,” বীরভুমের দেওচা পাঁচামিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লাখনি হচ্ছে। তার ফলে আগামী ১০০ বছর রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্কট মিটবে। সস্তা হবে বিদ্যুত। প্রথম পর্যায়ের জমি তৈরী। দ্বিত্বীয় পর্যায়ে পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরী। চাকরী দেওয়া হবে, বাড়ি দেওয়া হবে, হাসপাতাল, স্কুল সবই তৈরী করে দেওয়া হবে। কোনও অসুবিধা হবে না।”
তিনি বলেন, “ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরী। নাম দেওয়া হয়েছে জঙ্গলমহল সুন্দরী। প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ের কর্ম সংস্থান হবে। এছাড়াও দুর্গাপুর জামুড়িয়ায় শিল্পে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। অন্ডাল বিমান নগরীকে গ্রিনফিল্ড বিমান নগরী করা হচ্ছে। বাজেটে দেড়’শ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। অন্ডালকে আগামী দু বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা চালু হবে। অমৃতসর-ডানকুনি পন্য পরিবাহী করিডোরের কাজ চলছে। এরাজ্যে ২৫০০ একর জমি অধিগ্রহন হয়েছে। অশোকনগরে আইওসি তেল প্রকল্প হচ্ছে। সব মিলিয়ে শিল্পে পঞ্চ প্রদীপ জ্বালাতে পারব।”
এদিন তিনি শিল্পের উন্নয়নের জন্য দুটি পলিসি ঘোষণা করেন। একটি পরিবেশ বান্ধব ইথানল উৎপাদন প্রমোশন পলিসি। তিনি বলেন, “এখন পেট্রল ডিজেলে ইথানল ফুয়েল মিক্স করে ব্যাবহার শুরু হয়েছে। বায়ো ফুয়েল হিসাবে ইথানলের গুরুত্ব বাড়ছে। আর ইথানলের কাঁচামাল চালের খুঁদ। বাংলা চাল উৎপাদনে প্রথম। এবার চাষীরা চালের খুঁদও বেশী দামে বিক্রি করতে পারবেন। চাষীদের আয় বাড়বে। গ্রামগঞ্জে এই কারখানা করা যাবে।”
তিনি বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সেরা গন্তব্য এখন বাংলা। তাই আর একটি পলিসি ডেটা সেন্টার ইন্ডাস্ট্রি। ডেটা হ্যান্ডেলিং ও হাব গড়ে তোলা হয়েছে। পুর্ব ভারত ছাড়াও নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশের প্রয়োজন মেটাতে পারবে। ডেটা সেন্টারকে সব ধরনের সাহায্য করবে সরকার। আগামী ৫ বছরে ৪০০ মেগওয়াট ডেটা সেন্টার তৈরী হয়ে যাবে। ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। ২৪ হাজার তথ্যপ্রযুক্তির ছেলে মেয়ের কর্মসংস্থান হবে।”
এদিন তিনি বলেন, “সামাজিক কর্মসূচিতে আমরা এগিয়ে। গতকাল পর্যন্ত দুয়ারের সরকারে ২ কোটি আবেদন রেজিস্টার হয়েছে। জমি মিউটেশন থেকে জাতিগত শংসাপত্র প্রায় ৯৫ -৯৯ শতাংশ কাজ করে দেওয়া হচ্ছে সেখানে।” এদিন কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন, “কেউ বলে কালোধন নিয়ে আসব। কালোধনের বদলে কালাদান চলে আসে। তাই স্বচ্ছতা মেন্টেন্স করতে হবে। যেটা বলব সেটা করব।” এদিন করোনা টিকাকরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজ্যে ৪ কোটি টিকাকরন হয়ে গেছে। আমাদের প্রয়োজন জানিয়েছিলাম ১৪ কোটি। এরমধ্যে শিশুরাও রয়েছে।”

