আমাদের ভারত, ২৭ জুলাই: এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডে এমনিতেই কিছুটা বেকায়দার পরিস্থিতিতে পড়ে আছে তৃণমূল। তার মধ্যে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর দাবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। সিনেমার এমএলএ ফাটা কেষ্ট বলেছেন, ৩৮ জন তৃণমূল বিধায়ক বিজেপির সাথে যোগাযোগ রাখছে। এরপরই তার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য মহারাষ্ট্রে রাতারাতি সরকার বদলে গেলে বাংলায় নয় কেন?
তৃণমূল নেতৃত্ব বারবারই দাবি করে থাকেন বিজেপি সাংসদ বিধায়করা ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তারা দলবদলের জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু এই নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডের মধ্যে বুধবার পাল্টা দাবি করেছে বিজেপি তারকা নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, ৩৮ জন তৃণমূল বিধায়ক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। ২১ জন সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। বুধবার হেস্টিংসে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন মিঠুন। সঙ্গে ছিলেন দলের রাজ্য বিজেপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সতীশ ধন্দ। এরপর ধন্দ ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মিঠুন। সেখান থেকে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বলিউডের এই সুপারস্টার।
একুশের নির্বাচনে ৭৭- এ রথ থেমে গিয়েছিল পদ্মশিবিরের। তারপরে আবার শুরু হয়ে গিয়েছিল দলবদল। কিন্তু সেই খেলা এবার আবার ঘুরতে শুরু করল বলে দাবি। মহাগুরুর কথায়, “৩৮ জন তৃণমূল বিধায়ক আমাদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখছে। ২১ জন সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।” তিনি বলেন, “বম্বেতে একদিন সকালে উঠে দেখলাম শিবসেনা বিজেপি সরকার করছে। বাংলাতে যে এ রকম হবে না তা কে বলতে পারে?”
শুধু তাই নয় বিজেপির মুসলিম বিরোধী ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে সরব হন অভিনেতা। মিঠুনের কথায়, “বিজেপি দাঙ্গা বাধায়, মুসলিম বিরোধী কিন্তু তার প্রমাণ কোথায়? বিজেপি দেশের ১৮টি রাজ্যে ক্ষমতায়। মুসলিম বিরোধী হলে তো ৩ সুপারস্টার শাহরুখ খান সালমান এবং আমির খানের সিনেমা সেখানে চলতো না। কিন্তু দেখুন তো সেই সব রাজ্যে এই তিন খানের সিনেমার সবচেয়ে বড় কালেকশন হয়।”
যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি “মাঝে মাঝে প্রচারে থাকতে এসব বলতে থাকেন মিঠুন। তাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ওটা ওঁর কোনো ফ্লপ সিনেমার ডায়লগ হবে।”

