পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ ফেব্রুয়ারি: রবিবার দিনভর নানা বর্ণময় কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মেদিনীপুর কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সম্মিলনীর ৩৭ তম পুনর্মিলন উৎসব। এদিন সকালে প্রাক্তনীর পতাকা, উত্তোলন, স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাক্তনীর সভাপতি, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক সত্যরঞ্জন ঘোষ। তিনি তাঁর বক্তব্যে কলেজের উন্নয়নে প্রাক্তনীর ধারাবাহিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন প্রাক্তনীর সম্পাদক কুনাল ব্যানার্জি। আয় ব্যয়ের হিসাব পেশ করেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক গৌতম ঘোষ।
এদিনের অনুষ্ঠানে কলেজের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট প্রাক্তনীকে সম্মানিত করা হয়। সম্মানিত হন কলেজের প্রাক্তনী, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড: সুশান্ত চক্রবর্তী, দিল্লি আইআইটির অধ্যাপক ড: সুবীর কুমার সাহা, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক গোপাল কৃষ্ণ পাহাড়ি, প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক কুমারেশ ঘোষ, প্রাক্তন ফুটবলার প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী, প্রাক্তন শিক্ষিকা শ্যামলী সাহা সহ অন্যান্যরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন দুই অধ্যক্ষ ড: গোপাল চন্দ্র বেরা ও ড: প্রবীর কুমার চক্রবর্তী, প্রাক্তনীর কার্যকরী সভাপতি, গড়বেতা কলেজের অধ্যক্ষ ড: হরিপ্রসাদ সরকার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা।

উপাচার্য ড: চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে মেদিনীপুর কলেজের গৌরবময় অতীত ও বর্তমান সময়ে ধারাবাহিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। বিকেলে কলেজের প্রাক্তনী বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী আলোক বরণ মাইতির পরিচালনায় মজাদার অন্তাক্ষরী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও নাটক পরিবেশন করেন প্রাক্তনীরা। প্রাক্তনীদের নাটক ‘দে গরুর গা ধুইয়ে’ উপস্থিত সকলের মন জয় করে নেয়। প্রায় সাত শতাধিক প্রাক্তনী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রাক্তনীর সাধারণ সম্পাদক কুনাল ব্যানার্জি বলেন, শেষ তিন বছরে প্রাক্তনীর পক্ষ থেকে মেদিনীপুর কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রায় বাইশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও সাহায্য করা হবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে।

