কোভিডের সঙ্গে লড়াইয়ে কলকাতার পাশে আলিপুরদুয়ারের ৩০ কোভিড যোদ্ধা

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ৯ মে: মহানগরীতে কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবার প্রত্যন্ত আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে ১৩জন কোভিড যোদ্ধা পারি দিল কলকাতায়। শনিবার আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম পর্যায়ে ১৩জন দক্ষ প্রশিক্ষিত এই কোভিড যোদ্ধা বাসে করে জেলা প্রসাশনিক ভবন ডুয়ার্স কন্যার সামনে থেকে জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা, জেলা মুখ্য স্বাস্থ আধিকারিক গিরিশ চন্দ্র বেরা সহ অনান্য আধিকারিকরা সম্বোর্ধনা দিয়ে রওনা করিয়ে দেন। যাবার আগে কোভিড যোদ্ধাদের মুখে শোনা যায় এই মহামারিতে একসময় সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের সুস্থ করে তুলেছে। এবার আমাদেরও কর্তব্য সরকারকেও সাহায্য করা।

শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয় ডুয়ার্সকন্যা থেকে বাসে করে দলটি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। রবিবারই দলটির কলকাতায় স্বাস্থ্য ভবন পৌঁছে যাবে। শনিবার সবুজ পতাকা নেড়ে বাসের যাত্রা শুরু করিয়েছেন জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা। প্রথম ব্যাচে ১৩ জন ছাড়াও পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় মোট ৩০জন কোভিড যোদ্ধাকে কলকাতা পাঠানো হবে।

সুরেন্দ্র কুমার মিনা বলেন, “স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে নির্দেশ এসেছে। সেই নির্দেশ মেনেই আমরা প্রথম ধাপে ১৩ জনকে পাঠালাম। জেলার প্রায় সবকটি ব্লক থেকেই কোভিড ওয়ারিয়র রয়েছেন। এরা সকলেই গত বছর থেকে কোভিড যোদ্ধা হিসেবে জেলায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এবার তারা কলকাতায় কোভিড আক্রান্তদের পরিষেবা দেবে। আলিপুরদুয়ার জেলা তাদের জন্য গর্বিত। সকলকেই আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কোভিড প্রোটোকল মেনেই এদের দু’দফায় ভ্যাক্সিন গ্রহণ সম্পূর্ন হয়েছে। রাজ্য সরকার কলকাতায় সকলেরই থাকা ও খাবার ব্যবস্থা করবে।”

জানা গেছে, ১৩ জনের দলে রয়েছেন আলিপুরদুয়ার জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত কুমারগ্রাম ব্লকের বারবিশার দানেশ কুমার পন্ডিত। প্রত্যেকেরই ৬ মাস থেকে ১ বছর বিভিন্ন হাসপাতালে, স্বাস্থ্য দপ্তরের অফিসে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কলকাতায় করোনা পরিস্থিতিতে আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে গিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরকে সহযোগীতা করবেন কোভিড যোদ্ধারা।

দানেশবাবু জানান, “আমার ইচ্ছা অনিচ্ছা এখানে কোনও বিষয় নয়। গত বছর কোভিড পরিস্থিতিতে আক্রান্ত হই।সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় সুস্থ হই। কোভিড যোদ্ধা হিসেবে স্বাস্থ্য দপ্তরের সাথে আছি। সামান্য ভয় আছে। তবে স্বাস্থ্য দফতর যেখানেই দায়িত্ব দেবে কাজ করবো।”

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, “খুবই তাতপর্যপুর্ন ঘটনা। শুধু নিজের জেলাকেই নয়, কোভিড পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যের আর একটি এলাকাকে সহযোগিতার হাত বাড়ালো আলিপুরদুয়ার। এটা ঠিক রাজ্যের অন্যান্য জেলার তুলনায় আলিপুরদুয়ারে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে জেলার প্রতিটি মানুষকে সচেতন থাকতে হবে।” উল্লেখ্য, গত বছর কোভিড পরিস্থিতির শুরুতেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আলিপুরদুয়ার মডেল গোটা রাজ্যে প্রশংসা পেয়েছিল।এবারও জেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য দপ্তর প্রথম থেকেই দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *