জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৫ জুলাই: উপ-সংশোধনাগারের পাঁচিল টপকে পালালো বিচারাধীন তিন বন্দি। রবিবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, দুর্গাপুর উপ-সংশোধনাগারে। রাতে পুলিশি তৎপরতায় কাঁকসার মলানদিঘিতে ধরা পড়ল এক ফেরার আসামি। ঘটনাস্থলে বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি (কারা) শুভব্রত চট্টোপাধ্যায় ছুটে আসেন দুর্গাপুর উপ সংশোধনাগারে।
ঘটনায় জানা গেছে, দুর্গাপুর উপ-সংশোধনাগার থেকে ফেরার তিন বিচারাধীন বন্দির নাম, মহঃ শাহাবুদ্দিন জামুড়িয়া থানা এলাকার বাসিন্দা। খুনের ঘটনার আসামি। ভুবন নিয়োগী দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা। অন্ডালের পেট্রোল পাম্পে ডাকাতি কান্ডের আসামি ভুবন নিয়োগী।

আর একজন ঝাড়খন্ডের জামতাড়া জেলার নেপাল মির্ধা। ঘটনায় জানাগেছে, রবিবার বিকেল নাগাদ ওই তিন কুখ্যাত বিচারাধীন বন্দি সংশোধনাগারের পাঁচিল টপকে পালিয়ে যায়। দুর্গাপুর উপ-সংশোধনাগারের কারারক্ষীরা ঘন্টাখানেক পর গণনার সময় বিষয়টি জানতে পারে। তারপরই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খবর চাউর হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা জেলাজুড়ে। পশ্চিম বর্ধমান জেলাসহ আশপাশের জেলার সব থানাকে এ বিষয়ে সতর্ক করে জোর তল্লাশি অভিযানে নামে পুলিশ। খবর পেয়ে বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি (কারা) শুভব্রত চট্টোপাধ্যায় ছুটে আসেন দুর্গাপুর উপ সংশোধনাগারে। সোমবার দিনভর তিনি গোটা সংশোধনাগারটি ঘুরে দেখেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুর উপ-সংশোধনাগার থেকে আসামি পালানো নতুন কিছু নয়। ২০০৯ সালে দ্বার রক্ষীদের মাদক মেশানো খাবার খাইয়ে বেহুঁশ করে ৬ কুখ্যাত বিচারাধীন বন্দি পালিয়ে গিয়েছিল। তার পর এদিনের ঘটনায় আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে দুর্গাপুর উপ-সংশোধনাগারের সুরক্ষা ব্যবস্থা। জানা গেছে, আসামির সংখ্যা বাড়লেও উপ সংশোধনাগারে কর্মী সংখ্যা বাড়েনি। তার ওপর নেই কোনো সিসিটিভি। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় সংশোধনাগারের সাইরেন বিগত ছ’মাসের বেশি সময় বিকল হয়ে রয়েছে। এছাড়াও কোভিড আবহের পরও সংশোধনাগারের বাইরে চারপাশে ঝোঁপ জঙ্গলে ভর্তি। আর এসবের সুযোগ বুঝেই কি পালিয়েছে আসামিরা? যদিও রাতে পুলিশি অভিযানে পলাতক বিচারাধীন আসামি ভুবন নিয়োগী মলানদিঘি এলাকার ধরা পড়ে। বাকি দুই আসামি এখনও পলাতক। সোমবার ধৃত ভুবনকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। যদিও এদিন সংশোধনাগারে পরিকাঠামোর ঘাটতি কার্যত স্বীকার করে নেন বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি (কারা) শুভব্রত চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, ঘটনার সময় ৩ কর্তব্যরত রক্ষীকে শোকজ করা হয়েছে। বিকল সাইরেন সারানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কর্মী সঙ্কটের বিষয়টি সরকার চিন্তাভাবনা করছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

