সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৯ জুন: বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরুলিয়া জেলা সদর। মঙ্গলবার রাতে একটি হোটেলের বাইরে দুই পক্ষের বচসার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে আহত হয়েছেন, পুরুলিয়া শহর তৃণমূল সভাপতি। তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাতের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় পুরুলিয়া শহর তৃণমূল সভাপতি বিভাস দাসের উপর আক্রমণের অভিযোগ তোলা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়, তৃণমূল ও পুলিশের হাতে তাদের দুজন নেতা আক্রান্ত হয়ে আহত হয়েছেন। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাপক উত্তেজনা ছিল পুরুলিয়া শহরে। অবস্থা সামাল দিতে সদর থানার তরফে মোতায়েন করা হয় বিরাট পুলিশ বাহিনী।
তৃণমূল নেতা বিভাস দাসের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের ভাই প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে। বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় জানান, তারা দুঃস্থ মানুষদের জন্য বাস-স্ট্যান্ডে প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। সেখানে ওই তৃণমূল নেতার ওয়ার্ড থেকে বহু মানুষ খেতে আসছে। তা মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূল নেতা বিভাস দাস। সেই কারণেই আমদের নেতা কর্মীদের মারধর করেছে। পুলিশের সাহায্য নিয়ে নির্বিচারে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়। তৃণমূল সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, এই আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন বিজেপির শহর মণ্ডলের সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারী এবং শহর দক্ষিণ মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ্ত চট্টোরাজ। তাদের পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

ছবি: বিজেপি নেতা সত্যজিৎ অধিকারী।
এদিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত বিজেপি নেতা সত্যজিৎ অধিকারী বলেন, তৃণমূলের নেতা কর্মীরাই তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে। বেলার দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচিতে স্থানান্তরিত করা হয়। তৃণমূলের তরফ থেকে অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

ছবি: তৃণমূল নেতা বিভাস দাস।
আহত তৃণমূল নেতা বিভাস দাসও পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল ও কলেজ হাসপাতালে চিকিতসাধীন রয়েছেন।
ধৃত বিজেপি নেতা প্রদীপ মুখার্জির বিরূদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। আজ তাঁকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেন বিচারক।

