প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৯ মে: অবশেষে নিউ ব্যারাকপুর গেঞ্জি কারখানার অগ্নিকান্ডে নিখোঁজ থাকা ৪ কর্মীর দেহ উদ্ধার হল কারখানার ভেতর থেকে। আগুন লাগার ৩ দিন পর শনিবার প্রথম আগুনে ভস্মীভূত কারখানার ভেতরে দমকল কর্মীরা ঢুকতে পারেন। সকাল বেলা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভেতরের যে আগুন রয়েছে সেই আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
বুধবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বিলকান্দার গেঞ্জি কারখানায়। এরপর ক্রমেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওই বিল্ডিংয়ের ওষুধের গোডাউনে। আর তাতে আটকে পড়েন ২৭ বছরের অমিত সেন, স্বরূপ ঘোষ (২২), তন্ময় ঘোষ (৩২), সুব্রত ঘোষ নামে ৪ কর্মী। আগুন লাগার পর ওই কর্মীদের বাইক জ্বলন্ত অবস্থায় মিললেও নিখোঁজ ছিলেন ওই ৪ কর্মী। দমকলের ২৪ টি ইঞ্জিন ৫০ ঘণ্টার চেষ্টায় শনিবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার খবর মিলতেই পুলিশ প্রশাসন, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কর্মীরা পৌঁছে যান। এরপর তারা ভেতরে পৌঁছে তল্লাশি চালান। পুলিশ প্রশাসন ও দমকল কর্মীরা ভেতরে গিয়ে কারখানার বিল্ডিংয়েরর তিন তলার শিড়িতে ৪ টি মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ওই ৪ কর্মীর পরিবারের আত্মীয়দের দেহ সনাক্ত করার জন্য ডেকে পাঠানো হয়। এরপর ওই কর্মীদের আত্মীয়রা কারখানার ভেতরে গিয়ে দেহ সনাক্ত করেন। শনিবার সকালে ওই ৪ কর্মীর দেহ উদ্ধার হওয়ার খবর শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। ওই অগ্নিকান্ডে আটকে থাকা ৪ কর্মীদের আত্মীয়রা দেহগুলি সনাক্ত করে ফিরে আসলে ঐ দেহগুলি কে কারখানার বাইরে বের করে নিয়ে আসা হয়। মৃত দেহ সনাক্ত করার পর অসুস্থ বোধ করেন অনেক আত্মীয়। তাদের কথায়, “মৃত দেহগুলি পুরো জ্বলে গিয়েছে। খুব কষ্ট করে চিনতে পারলাম আমরা। ৪ জন এক জায়গায় পড়ে ছিল আর শিড়ির ওপর পড়েছিল দেহগুলি। দেখে মনে হল ৪ জন শিড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল কিন্তু গেটে তালা থাকায় বেরতে পারেনি।”
কারখানায় অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে। এদিন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে এসে বলেন, “৪ জনের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিল্ডিংয়ের শিড়ি থেকে মিলেছে দেহগুলি। তবে কেনো এই ঘটনা ঘটলো, কি করে ওরা শিড়িতে পৌঁছলেন সেটা তদন্ত করে দেখা হবে। ফরেন্সিক দল আসবেন তারাই সব তদন্ত করে দেখবেন কি করে এই আগুন লাগল।”

