দুর্গাপুরে কোভিড আক্রান্ত ৩ শিশু, বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত জ্বর, উদ্বেগ শিল্পাঞ্চল জুড়ে

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৫ সেপ্টম্বর: ইঞ্জেকশন কান্ডের মাঝেই ৩ শিশুর শরীরে কোভিডের নমুনা ধরা পড়ল। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। আর তাতে উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পশহর দুর্গাপুরজুড়ে। আশঙ্কা অক্সিজেন সঙ্কটের। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর জেলা স্বাস্থ্য দফতর। ইঞ্জেকশন কান্ডের তদন্তে জেলা স্বস্থ্যদফতরের বিশেষ শিশু বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে শনিবার পর্যন্ত ৫৫ জন শিশু বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে। শুক্রবার জ্বরে চিকিৎসাধীন কিছু শিশুদের প্রয়োজনীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। তার ঘন্টাখানেক পর ৩ জন শিশুর আচমকা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর শুরু হয় বলে অভিযোগ। আর তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাসপাতালে। 

আর সেসব দেখে শিশুর পরিবারের লোকজন শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করে। জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭ শিশুকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। আতঙ্কে শিশুর পরিবাররা হাসপাতাল সুপার ও কর্তৃপক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে দেয়। অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলাতির কারনে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাসপাতালে। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশকে ঘিরে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিশুর পরিবার পরিজনরা। প্রশ্ন ওঠে, কি এমন ইঞ্জেকশন, যা দেওয়ার পর আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ল শিশুরা?

 যদিও জেলা স্বাস্থ্য দফতর শিশু বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। শনিবার সকাল থেকে ঘটনায় নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে শিশুদের পরিবারের লোকজন। ইঞ্জেকশন কান্ডের মাঝেই ৩ শিশুর শরীরে কোভিড নমুনা ধরা পড়ল। তাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। আর তাতে উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পশহর দুর্গাপুরজুড়ে। শনিবারও এক শিশুর শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।

দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ধীমান মন্ডল বলেন, “৫৫ জন শিশু বিভিন্ন উপসর্গে ভর্তি আছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে।” জানা গেছে, দুর্গাপুর শহরে মোট ৪ টি ১০২ ক্যাব অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। যেখানে অক্সিজেন সাপোর্ট সহ প্রসুতিদের বাড়ি থেকে হাসপাতালে ভর্তি করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এদিন অভিযোগ ওঠে, হাসপাতালের ১০২ ক্যাব অ্যাম্বুলেন্সের অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার পরিকাঠামো ছিল না। আর তাতেই নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। গত দেড় বছর ধরে করোনা আবহে সিঁটিয়ে গোটা বিশ্ব। দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হতেই তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আগাম সতর্ক বার্তা দিয়েছিল ‘হু’। শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেন সমস্যা দেখা দেওয়ার অশনি সঙ্কেত দেওয়া হয়। প্রশ্ন তারপরও পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম পরিকাঠামো তৈরী রাখা হয়নি কেন? দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ধীমান মন্ডল বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, “শিশু বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছি। ৩ জনের নমুনায় কোভিড পাওয়া গেছে। তাদের কোভিড ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। নজরদারিতে রাখা আছে। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে সিসিইউ শয্যা ১৫ এবং নবজাতকদের জন্য ৫ টি শয্যা রয়েছে। ৩ শিশুকে সিসিইউতে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসছে। উদ্বেগের কারন নেই। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *