গোবরডাঙায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে ২১৫ টি কচ্ছপ উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৭ জুন: ঘরের মেঝে খুঁড়ে ২১৫ টি কচ্ছপ উদ্ধার করল বন দফতর। উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার গণদীপায়ন এলাকার এক পাচারকারীর বাড়ি থেকে। ২১৫ টির মধ্যে ৯টি কচ্ছপ মৃত। মাটির চাপেই মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। অভিযুক্ত পাচারকারী গৌতম মজুমদার পলাতক।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, ভিন রাজ্য থেকে চোরাপথে আনা হত কচ্ছপ। ঘরের মেঝেয় মাটি খুঁড়ে রাখা হত সেগুলি। পরে গোপনে পাঠিয়ে দেওয়া হত বনগাঁ হাবড়া সহ বিভিন্ন বাজারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বেআইনি কারবারের কথা টেরও পাননি আশপাশের প্রতিবেশীরা। এদিন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বন দফতরের কর্তারা হানা দেন গোবরডাঙার গণদীপায়ন এলাকার ওই বাড়িতে। ঘরের মেঝেতে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে পরে কচ্ছপগুলি।

বন দফতর সূত্রের খবর, ২১৫টি জীবিত এবং ৯টি মৃত কচ্ছপ উদ্ধার হয়েছে। বাড়ির মালিক গৌতম মজুমদার পলাতক। তার খোঁজ চলছে। এর আগেও গৌতম গ্রেফতার হয়েছিল বলে জানান বন দফতরের কর্তারা। উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য বনাধিকারী জানান, এ দিন উদ্ধার হওয়া জীবিত কচ্ছপগুলিতে নদীতে ছেড়ে দেওয়া হবে। এত দিন সাধারণত শীতকালেই কচ্ছপ পাচারের খবর মিলত। বারাসত, বনগাঁ মহকুমার বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে বা গোপনে কচ্ছপ বিক্রি হতেও দেখা যায়। অতীতে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে কচ্ছপ পাচার চক্রের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ, প্রতি বছরই কচ্ছপ উদ্ধার হয় কারবারী গ্রেফতার হয়। কিন্তু কারবার বন্ধ হয় না। ইদানীং বছরভরই কচ্ছপের কারবার চলছে বলে বন দফতরের কর্তারা জানতে পেরেছেন। মূলত গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান থেকে বাজারে কচ্ছপ আসে। সাধারণত মাছের গাড়িতে, মাছের ট্রের নীচে লুকিয়ে কচ্ছপ বাজারে ঢুকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বন দফতর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *