রাজেন রায়, কলকাতা, ২৮ আগস্ট: ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-যুবকদের মন জয়ে একমাত্র বাজি হতে পারে কর্মসংস্থান। তাই রাজ্যের যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে অভিনব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন,‘এবার থেকে প্রতি বছর সারা রাজ্য থেকে বাছাই করা ২০০ জন পড়ুয়াকে সিএমওতে কাজ করার জন্য নেওয়া হবে। প্রতি বছর এটা পড়ুয়াদের ইন্টার্নশিপ করার মতো হবে। আর লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বাংলায়।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে প্রচুর ছাত্র যুবদের প্রয়োজন। প্রত্যেক বছর ছাত্র যুবদের দফতরে কাজ করানোর পর এলাকায় এলাকায় গিয়ে কাজ করানো হবে। তাহলে মানুষের সঙ্গে কাজ করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি হাতেকলমে শিখে নেবে। কারণ, ছাত্ররাই দেশের ভবিষ্যৎ। আমি চাই তাঁরাই এগিয়ে আসুক।
রাজ্যপাল থেকে বিরোধী দলনেতা যতই রাজ্য কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলুন না কেন, গত ১০ বছরে
রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কী করেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যে গত দশ বছরে কয়েক কোটি যুবকের চাকরি হয়েছে। সারা দেশে যখন বেকারত্ব বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ, তখন এই রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। এদিনের ভার্চুয়াল মঞ্চ থেকে ফের দাবি করেন মমতা।
রাজ্যের শিল্প বিনিয়োগ আসছে তা প্রমাণ করতে এদিন তিনি বলেন, দিঘায় কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, সিলিকন ভ্যালি, দেওচা পাঁচামির মতো প্রকল্পের ফলে আগামী দিনেও কয়েক লক্ষ যুবক-যুবতীর চাকরি হতে চলেছে। এই সবই করছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও, গত দশ বছরে আইটিআইতে ৮৫ হাজার আসন, পলিটেকনিকে ৪০ হাজার আসন করা হয়েছে। এছাড়াও, ১৪টি মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বহু নার্সিং কলেজ-সহ কর্মসংস্থানের উপযোগী বিভিন্ন কোর্সের জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে।
এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, পড়ুয়াদের সুবিধার্থে কামতাপুরী ভাষায় চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত এই বই তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই এই বই প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও, অলচিকি হরফ, উর্দু, গুরমুখি-সহ সবরকম ভাষাকেই গুরুত্ব দিয়ে তাকে শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

