আমাদের ভারত, ২৩ মার্চ: বিজেপি বিধায়কের করা মানহানির ফৌজদারী মামলায় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে দু’বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সুরাট আদালত। যদিও সঙ্গে সঙ্গে জামিনও পেয়েছেন রাহুল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সুরাট আদালতের এই রায় কি রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ বাতিল হয়ে যাওয়ার কোনো রকম সম্ভবনা রয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের জনপ্রতিনিধি আইনের সেকশন ৮(৩) অনুযায়ী কোনো সাংসদ যদি কোনো অপরাধী দু’বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তাহলে তার সংসদ পদ বাতিল হতে পারে। শুধু তাই নয় ওই ব্যক্তি পরবর্তী আট বছর লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারবেন না। উচ্চতর কোনো আদালতে এই রায় বাতিল না হলে ২০২৪ সালের লোকসভার লড়াই থেকেও রাহুলকে ছিটকে যেতে হতে পারে। রাহুল গান্ধীর কাছে উচ্চতর আদালতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু রাহুল যদি কোনো আদালতে গিয়ে সুরাট আদালতের এই রায়ে স্থগিতাদেশ আদায় করতেন না পারেন তাহলে তার সাংসদ পদ বাতিল করে তার লোকসভা কেন্দ্রটিতে ফের নির্বাচন করাতে পারে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই নির্বাচনে রাহুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, রাহুল এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন। প্রয়োজনে সুপ্রিমকোর্টেও যেতে পারেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতীয় দণ্ডবিধির যে ৪৯৯ নম্বর ধারায় কংগ্রেস সাংসদকে দু’বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে সেই ধারায় দু’বছরের শাস্তি হওয়াটা খুবই বিরল।
এদিকে আদালতের রায়ের পরই সরব হয়েছেন বিজেপির নেতারা। পীযূষ গোয়েল, কিরণ রিজেজুর মত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধী কোনো কালেই সাংবিধানিক পদকে সম্মান করতে পারেননি। এমনকি মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি সরকারের পাস করানো অর্ডিন্যান্স ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। আগামী দিনে বিজেপি যে কংগ্রেস নেতার সাংসদ পথ খারিজের উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ করবে তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এদের কথায়।
কংগ্রেসের অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করছে বিজেপি। অনেকের দাবি আদানি ইস্যুতে রাহুল লাগাতার প্রশ্ন তুলেছেন বলেই তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে এই রায়ের বিরুদ্ধে অনেক জায়গাতেই প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেস। পথে নেমেছেন যুব কংগ্রেসের কর্মীরাও।

