বেয়াই সেজে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা চুরি, সব হারিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা হাঁসখালি প্রৌঢ়ের

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৪ সেপ্টেম্বর:
আত্মীয়ের সম্পর্ক পাতিয়ে দু লক্ষ তিরিশ হাজার টাকা চুরি করে পালালো এক প্রতারক। প্রথমে মেয়ের বাপের বাড়ি তারপর মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে ১২ দিন কাটিয়ে টাকা নিয়ে হাওয়া ওই প্রতারক। প্রথমে মেয়ের বাপের বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে জানায় সে তার রক্তের সম্পর্কের ভাই। সেখানে কিছুদিন থেকে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে তারপর যায় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে। সেখানেও একইভাবে বিশ্বাস অর্জন করে ১২দিন পর টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় প্রতারক। পরিবারটি সব হারিয়ে এখন অসহায়। নদিয়ার হাঁসখালির ঘটনা।

জানাগেছে, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের দুর্গাপু্রের পুকুর পাড়ার বাসিন্দা অমর বিশ্বাস পেশায় একজন কৃষক। অমরবাবু তাঁর বড় ছেলের বিয়ে দেন হাঁসখালির গাজনা কমলপুরের অসীম শিকদারের মেয়ে অদিতির সঙ্গে। অসীমবাবুর গাজনার বাড়িতে কয়েকদিন আগে এক ভদ্রলোক আসেন, তিনি নিজেকে তার রক্তের সম্পর্কে ভাই বাবলু শিকদার বলে পরিচয় দেন। এমনকি প্রতিটি পরিবারের নাম ঠিকানা তার মুখস্থ। ফলে অসীমবাবু সাদরে গ্রহণ করে। ভাই বলে মান্নতা দেন বাবলুকে।

বাবলু শিকদার নামের ওই ব্যক্তি অসীমবাবুর বাড়িতে এসেই বাজার করা, জিনিসপত্র আনা সবকিছু করে পরিবারের সকলের মন জয় করে নেয়। অমরবাবু এভাবে খরচ করতে বারণ করলে বাবলু বলত, “আমার স্ত্রী মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ে সুনিতার বিয়ে দিয়ে এখন একাকী জীবন। আমি ঠিক করেছি আমার টাকা খরচ করব, আর আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ঘুরে বেড়াব। দুদিনের মধ্যেই পরিবারের সকলের নয়নের মণি হয়ে যান বাবলু শিকদার। এই কথা অমরবাবু তার মেয়েকে ফোনে জানান দীর্ঘদিন পর তোর এক কাকা এসেছে। এই কথা শুনে মেয়ে বাবাকে জানায় তুমি কাকাকে আমার শ্বশুর বাড়ি নিয়ে এসো।

কাছাকাছি মেয়ের বাড়ি হওয়ায় অসীবাবু মেয়ের কথা ফেলতে পারেনি। আর মেয়ে এর আগে কোনও দিন কাকাকে না দেখায়, দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে। মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করতে সটান কাকাকে নিয়ে হাজির অসীমবাবু। নতুন কাকাকে পেয়ে অদিতি আনন্দে আত্মহারা। নতুন বিয়াই পেয়ে অদিতীর শ্বশুর অমরবাবু আনন্দে আত্মহারা।অমর বাবুর পরিবারে উৎসবের চেহারা নেয়। পরের দিন সকালে অসীমবাবু বাড়ি চলে গেলেও বাবলু শিকদার থেকে যায়। সেখানে একইভাবে পরিবারে বাজার করা, জিনিসপত্র কিনে অল্প সময়ের মধ্যে সকলের নয়নের মণি হয়ে যায়। কথায় কথায় বাবলুবাবু জানতে চান বেড়ার ঘরে বাস করছেন কেন? পাকা ঘরের ছাদ দেননি কেন?অমরবাবু জানান টাকার অভাবে সম্ভব হয়নি। পাট উঠেছে পাট বিক্রি করে ছাদ দেবার চেষ্টা করব। এই কথা শুনে বাবলু শিকদার জানায় টাকার অভাব নেই ঘরে ছাদ দেবার জন্য তৈরি হন।

স্বাভাবিক ভাবেই অমরবাবু পাট বিক্রি করে দেন। একলাখ ষাট হাজার টাকার পাট বিক্রি করেন। ছাদ করার প্রস্তুতি নেন। এমনকি বাবলু শিকদার অমরবাবুকে দোকানে নিয়ে গিয়ে নিজের আঁধার কার্ড দিয়ে মোবাইলের সিম তুলে দেন। এই ভাবে ১২ দিন অমরবাবুর বাড়িতে ছিলেন নতুন বেয়াই। হঠাৎ বাবলু শিকদার বলে, আমায় দুদিনের জন্য বনগাঁ যেতে হবে। ঐখান থেকে টাকা নিয়ে আসব ছাদ ঢালাইয়ের জন্য। অমরবাবু নতুন বেয়াইকে মাজদিয়া রেল স্টেশনে ট্রেনে তুলে দিয়ে আসেন। বাড়ি ফিরে মাথায় হাত বাক্স থেকে দুই লক্ষ তিরিশ হাজার টাকা উধাও। বাবলুবাবুকে ফোন করে দেখেন ফোন বন্ধ।

অমরবাবুর পরিবারে ভেঙে পড়েছে। বৌমা অদিতি বিশ্বাস জানান, শ্বশুর মশাই টাকার শোকে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন, আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। ওনার দুই ছেলে তারাও বাইরে রাজমিস্ত্রীর কাজে গিয়েছেন। এখন কি করব ভেবে উঠতে পারছি না। এলাকাবাসী এই ঘটনায় হতবাক। অমরবাবু কৃষ্ণগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় হাঁসখালি থানার পুলিশ আবেদন নেয়নি। ফলে আরও দুশ্চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত পরিবার।

এব্যাপারে হাঁসখালি থানার আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, থানাতে অনেকেই আসেন অভিযোগ করতে। তবে আমার এখানে আসেনি। আমার কাছে এলে আমি ব্যাপারটা দেখতাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *