জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৭ জুন: পাইকারি সবজি, ফলের বাজারে ভোলার দাদাগিরি। যখন তখন বেমালুম তান্ডব চালাচ্ছে আস্ত বাজারে। তাঁর গুঁতোয় রীতিমতো ত্রস্ত গোটা বাজার। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। এমনই এক দাবিদারহীন ষাঁড়ের তান্ডবে অতিষ্ট ব্যাবসায়ী থেকে ক্রেতা সকলে। আর তাঁর আতঙ্কে খদ্দের আসা কমেছে। লাটে উঠছে পাইকারি ব্যবসা। লোকসানে মাথায় হাত পড়ছে ব্যাবসায়ীদের।
ভোলা। এক দাবিদারহীন ষাঁড়। দুর্গাপুর সেন মার্কেটের পাইকারি বাজারের এখন আতঙ্ক। দুর্গাপুর সেন মার্কেট শিল্পাঞ্চলের নামকরা পাইকারি সবজি ও ফলের বাজার। দামোদর তীরবর্তী মানাচরের ও বাঁকুড়ার টাটকা তরতাজা সবজি, তার সঙ্গে নাগপুর, ইন্দোর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সরাসরি ফল আসে ওই মার্কেটে। সুলভ দামের জন্য আসানসোল, রানীগঞ্জ, অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর, পানাগড় থেকে খুচরো বিক্রেতারা সেখান থেকে পাইকারি দরে সবজি ফল নেয়। রাত ১২ টা থেকে ক্রেতা, বিক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়। বাজার চলে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত। সকালের দিকে জমজমাট থাকে বাজার। গত বছর পাঁচেক ধরে বেশ কয়েকটি গরু ও একটি কালো রঙের ষাঁড় রয়েছে সেখানে। আড়তের ফেলে দেওয়া সবজি, ফলের টানে সেখানে থাকে। ষাঁড়টির নাম ভোলা। মাঝে মধ্যে ভোলার তান্ডবে নাজেহাল হয় ক্রেতা বিক্রেতারা। যখন তখন ভরা বাজারে তান্ডব শুরু করে দেয়। সম্প্রতি ওই ষাঁড়ের গুঁতোয় আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।
অভিযোগ, গত কয়েক বছরে এখনও পর্যন্ত ভোলার হামলায় প্রায় ২০ জন ব্যাবসায়ী, কর্মী ও ক্রেতা আক্রান্ত হয়েছে। ব্যাবসায়ীদের অভিযোগ, “ভোলা নিজের দাপটে প্রতিদিন সবজি খেয়ে নেয়। সজল সেন নামে একজনের পিছনে সিং ঢুকিয়ে দিয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। ভোলার হামলায় রবিবার আরও একজন আহত হয়েছে। সবজি খেয়ে ক্ষতি যেমন করছে, আবার তেমনই ক্রেতারা ভোলার আক্রান্তে বাজারমুখী হতে চাইছেন না। ভোলার গুঁতোর ভয়ে আতঙ্কে বাজারে আসা বন্ধ করছে। ফলে ব্যাবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
সেন মার্কেট ব্যাবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি তথা দুর্গাপুর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিপুল সাহা জানান, “বাজার এলাকায় ৬- ৭ টি ষাঁড় ও গরু রয়েছে। প্রতিটি গরু ব্যাবসায়ীদের প্রায়ই সবজি খেয়ে নিচ্ছে। তবে ভোলার দাদাগিরি দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। ভোলা প্রায় দিনই কাউকে না কাউকে গুঁতিয়ে জখম করে চলেছে। বিক্রেতা থেকে ক্রেতারা এখন আতঙ্কে। এক কথায় তার তান্ডবে অতিষ্ট।” তিনি আরও বলেন, “বনদপ্তর থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি। ষাঁড় গৃহপালিত পশু। তাই তাকে বিকল্প রাখার ব্যবস্থা করা যায়নি।”
কাঁচা সবজি ফলের বাজারে এহেন ষাঁড়ের দৌরাত্মে আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে ব্যাবসায়ীদের। ভোলার হাত থেকে পরিত্রানের আশায় প্রহর গুণছে গোটা বাজারের ক্রেতা, বিক্রেতারা।

