জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ অক্টোবর: পুজোর মরশুমে পুলিশের সাফল্য। একমাসের মধ্যে মানকরে মুদির দোকানে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই দুষ্কৃতী। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র ও নগদ টাকা।
পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, ধৃতদের নাম মহঃ মুন্না ঝাড়খন্ডের কোডরমার বাসিন্দা। অপরজনের নাম ইসরাইল আনসারী। ঝাড়খন্ডের গিরিডির বাসিন্দা। ধৃতদের আদালতে রিমান্ডে নিয়ে টিআই প্যারেড করে পুলিশ। তাতে শনাক্ত করে আক্রান্ত ওই ব্যাবসায়ী। পুনরায় আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টম্বর বুদবুদের মানকর ক্যাম্পের মোড়ে আদিত্য ভান্ডার নামে একটি মুদির দোকানে সশস্ত্র হানা দেয় দুষ্কৃতী দল। সকলের মুখে গামছা ও মাস্ক বাঁধা। একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। দোকেনে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে খদ্দেরদের বের করে দেয় দুষ্কৃতীরা। তারপর দোকানের মালিককে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ক্যাশবাক্সর টাকা ব্যাগে ঢেলে নেয়। তারপর দোকানের মালিকের পকেটে থাকা টাকা বের করে নেয়।
দোকান মালিক মন্টু আদিত্য বলেন, “মুখে গামছা বাঁধা একজন রিভালবার দেখিয়ে খদ্দেরদের বের করে দেয়। হিন্দিতে কথা বলছিল। পরে আরও তিনজন ভেতরে ঢোকে। নিজেরা ক্যাশবাক্সের টাকা ব্যাগে ঢেলে নিল। আমার পকেটে থাকা টাকা বের করে নেয়।” ঘটনায় দোকানের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পুলিশ মুন্না ও ইসরাইলকে ঝাড়খন্ড থেকে গ্রেফতার করে। অনুমান ধৃতরা বেশ কয়েকদিন ধরে মানকরে ডেরা বেঁধেছিল। তারপর ছক কষে ওইদিন অপরাধ সংগঠিত করে। আর এখানেই প্রশ্ন, বাড়ি ভাড়ার নাম করে মানকরে দুষ্কৃতীরা ঘাঁটি তৈরী করছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালের ১২ মার্চ রাতে বুদবুদের মানকর রোড শশ্মান এলাকায় নাসিম শেখকে সশস্ত্র অবস্থায় ধরে পুলিশ। আদালতে তাকে দুদিনের নিজ হেপাজতে নিয়ে জেরা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় পুলিশ। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, বিহারের লক্ষ্মীসরাই ছাড়াও এরাজ্যের কাটোয়ার কুলডাঙা, আসানসোল উত্তর থানার লালচক আজাদ বস্তিতে ও মানকর মসজিদ তলায় ঘাঁটি গেড়েছিল। ওইসময় আসানসোলে, কাটোয়া ও বুদবুদ সব মিলিয়ে ১৩টি ডাকাতি, চুরির মামলা রয়েছে। তারপর আবার এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, “ধৃতদের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও নগদ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তার ওপর নাকা চেকিং চলছে।”

