মাতব্বর নেতাদের ফতোয়ায় বয়কটের শিকার ডেবরার কালিয়াআকুব গ্রামের ১৮টি পরিবার

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৮ জুন:  আইন ও প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্থানীয় নেতা ও মাতব্বররা পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার কালিয়াআকুব গ্রামের ১৮টি পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিকভাবে বয়কট করে রেখেছে বলে অভিযোগ।
এর ফলে যারা কন্যাদায়গ্রস্ত সেই পরিবারগুলি বিবাহযোগ্য মেয়েদের বিয়ে পর্যন্ত দিতে পারছে না। হচ্ছে না কোনও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান। কারণ তাদের ধোপা, নাপিত, দোকানে কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজনদের যাতায়াত সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শিশু কোলে এক গৃহবধূ বলেন, একমাত্র মেয়ের অন্নপ্রাশন পর্যন্ত করতে পারিনি। কোনও কোনও পরিবার বয়কটের শিকার হয়ে রয়েছে দেড় বছর। কিছু পরিবার প্রায় ছ’মাস ধরে বয়কটের শিকার। 

জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে এদের বয়কট করা হয়েছে। মাঠ থেকে ধান আনার জন্য অন্যরা ধান জমির উপর রাস্তা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা করতে দেননি বিশ্বরূপ দাস ও নকুল হাইত। এজন্য তাদের পরিবারকে বয়কট করা হয়েছে। বিশ্বরূপ দাস বলেন, আমাদের দুটি পরিবারকে ছয় মাস ধরে সামাজিকভাবে বয়কট করে রাখা হয়েছে।

একইভাবে রাস্তার জন্য পাকাপাকিভাবে বাস্তু ছাড়তে চাননি নারায়ণ, বাদল, অশোক ও অসিত গাঁতাইত। পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে পক্ষে রায় পেয়েছেন তারা। সেইজন্য তাদের বয়কট করা হয়েছে এবং এর ফলে তাদের চাষবাস, দোকান, টিউশানি করা, একশো দিনের কাজ, মন্দিরে পুজো দেওয়া ইত্যাদি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

এছাড়াও ১২টি পরিবার গ্রামের উদ্বৃত্ত অংশে খাস জমির পাট্টা পেয়েছে। কিন্তু গ্রামের জমি তারা কেন পাট্টা পাবে এই প্রশ্নে তাদের বয়কট করে রাখা হয়েছে বলে পরিবারগুলির অভিযোগ। পরিবারগুলিকে বয়কট করার ফলে আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েও তা তৈরি করতে পারছেন না তারা। এমনকি তাদের বাড়িতে পাড়া প্রতিবেশি কিংবা আত্মীয়স্বজন কেউ আসছেন না। আসলেই তাদেরও বয়কট করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মাসের পর মাস বয়কটে থাকা পরিবারগুলি বয়কট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ডেবরার বিডিও’র কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোবিন্দ সামই সহ অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যরা যদিও এই বয়কটের কথা স্বীকার করতে চাইছেন না। উপপ্রধান গোবিন্দ সামুই বলছেন, না না কাউকে বয়কট করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *