আমাদের ভারত, ২৩ আগস্ট: নাগরিকত্ব না পেয়ে আগস্ট মাসে রাজস্থান থেকে পাকিস্তানে ফিরে গেলেন ৭০০ পাকিস্তানি হিন্দু। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত সংখ্যালঘুদের ভারতে আশ্রয় দিতে সিএএ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। ফলে এই মানুষগুলোর ভারতে ঠাঁই মেলেনি। গত ১৮ মাস এদেশে থেকে পাকিস্তানে ফিরে গেলেন মোট ১৫০০ পাক হিন্দু।
নাগরিকত্ব পাওয়ার কড়া পরীক্ষায় এই ১৫০০ পাক হিন্দু পাস করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ভারত-পাক সীমান্তে অরাজনৈতিক সংগঠন “সীমান্ত লোক সংগঠন”- এর প্রেসিডেন্ট হিন্দু সিং সোধা।
তিনি জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫০০ জন পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছেন। রাজ্য ও কেন্দ্রের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এদের ফিরে যেতে হয়েছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যেসব নিয়মকানুনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তা করার মতো টাকা পয়সা এদের কাছে ছিল না। তাই তাদের ফিরে যেতে হয়েছে।
রাজস্থান সহ দেশের অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নেওয়া পাক হিন্দুদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করার পরও তারা জানেন না, আদৌ তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন কিনা। কমপক্ষে ২৫০০ হিন্দু ভারতের নাগরিকত্ব চান। গত ১০ থেকে ১৫ বছর তারা ভারতে রয়েছেন। ২০০৪-২০০৫ সালে ক্যাম্প করে ১৩ হাজার পাক হিন্দুকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গত পাঁচ বছরে মাত্র ৫ হাজার পাক হিন্দুকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রচুর ঝামেলা পোহাতে হয় পাক নাগরিকদের। প্রথমত তাদের পাকিস্তানের পাসপোর্ট থাকতে হবে। সেই পাসপোর্ট জমা দিয়ে নিতে হবে সারেন্ডার সার্টিফিকেট। তা দেখিয়ে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন করতে হবে। ভারতীয় নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য পাসপোর্ট সারেন্ডারের জন্য যে ফি জমা দিতে হয় তা ওইসব পাক হিন্দু উদ্বাস্তুদের পক্ষে মেটানো মুশকিল। পাসপোর্ট রিনিউ করতে পাক সরকার নিচ্ছে আট হাজার টাকা। ওই টাকাও তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয় না।
সিএএ আইন হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। তবে এরমধ্যে ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন আবেদনের ব্যবস্থা করেন। পাকিস্তান-আফগানিস্তান বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈনদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয় দেশের ৭ রাজ্যে। কিন্তু এরপরেও এই ছবি ধরা পড়ল রাজস্থানে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সাল পর্যন্ত ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে ১০ হাজারের বেশি। এদের বেশিরভাগই পাকিস্তানের।। এদিকে এপ্রিল মাসে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে সিএএ আইন খতিয়ে দেখতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে।

