আমাদের ভারত, ১২ সেপ্টেম্বর: বিজেপি কর্মী সমর্থকরা যাতে নবান্নে পৌঁছাতে না পারেন তার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু কোনোভাবেই এই অভিযান আটকানো যাবে না। এই হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন স্টেশনে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ট্রেনে বাসে উঠতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে কলেজ স্কোয়ারে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সারা শহর হাওড়া এবং সাঁতরাগাছিতে পুলিশ প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের দুটো শক্তি একটা হল চোর গুন্ডা বদমাইশ আরেকটা হল পুলিশ। কিন্তু কোনোভাবেই এই অভিযান আটকানো যাবে না, কারণ এটা জনগণের আন্দোলন। জনগণ যে আন্দোলন করে তার জন্য কোনো অনুমতির পরোয়া করে না। চোরেদের সরকারের কাছে আমাদের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই বলেই হুংকার দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “জনগণের এই আন্দোলন দেখে আগেই ভয় পেয়ে জেলায় পালিয়ে গিয়ে বসে আছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর শহর জেলা থেকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা যাতে আসতে না পারেন তার জন্য পুলিশকে পথে নামিয়ে দিয়েছেন। আশাকরি যে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আগামীকাল রয়েছে, তাকে আটকানোর চেষ্টা করবে না পুলিশ। কারণ পুলিশের ডিএটাও বাকি আর তাদের এইডিএ পাইয়ে দেওয়ার জন্যই আমাদের এই লড়াই। তাদেরকেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। তাদেরকেও ইলেকট্রিক বিলটা বেশি দিতে হচ্ছে। তাদের পরিবারও এমন অনেকেই আছেন যারা শিক্ষিত হয়েও বছরের পর বছর চাকরি না পেয়ে বাড়িতে বসে আছেন। পুলিশের কাছে আমাদের আবেদন আপনাদের যে সাংবিধানিক দায়িত্ব সেটাই পালন করুন। আর তা না হলে আইনশৃঙ্খলা যদি কোনোভাবে বিঘ্নিত হয় তার দায় পুলিশ প্রশাসনের।”
ইতিমধ্যে হাওড়া পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে মঙ্গলবার কোনো মিছিল করতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বিজেপিকে। এ বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “এটাতো সাধারণ মানুষের মিছিল। এটা চোর ধরার মিছিল সেই মিছিল করার অনুমতি নিতে হবে চোরেদের কাছে? চোরেদের কাছ থেকে অনুমতি নেব? চোরেদের কাছ থেকে আবার পারমিশন নেওয়ার কি দরকার? জনগণই মালিক তারা পারমিশন দেবে। চোরেদের সরকারের কাছ থেকে আমাদের কোনো রকম অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। জনগণের সরকার। জনগণ বুঝে নেবে।”
কলেজস্ট্রিট চত্বরে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে সেখানেও কোনোরকম জমায়েত করতে দেওয়া হবে না। এমনটাই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে। এই বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “কলকাতা পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাডারের মতো আচরণ করছে। আর এটা করতে গিয়ে তারা নিজেদের সম্মান হারাচ্ছে। গতবারেও ১৪৪ ধারা জারি ছিল তখনও আমরা আন্দোলন করেছিলাম। আগামী কালও করব। ১৪৪ ধারা হোক বা ৪৪৪ ধারা, কোনো ধারাই আমাদের আটকাতে পারবে না।”
অন্যদিকে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে প্রায় ১১ হাজার নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে কটাক্ষ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবার মনে হচ্ছে দুয়ারে চাকরি প্রকল্প শুরু করছেন। তিনি লক্ষ লক্ষ চাকরির কথা বলছেন। তিনি একথা বলতে পারেন, এই ধরনের কথা তিনি আগেও বলেছেন যা মেলিনি। এবারেও মিলবে না। আজ গর্বের সঙ্গে যে ১১ হাজার চাকরি বিলি করলেন তার বেশিরভাগটাই বেসরকারি চাকরি। বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর ক্রেডিট কোথায়? বেসরকারি সংস্থা যাকে মনে করবে তাকে নেবে এটা তারা ঠিক করে।”

