স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৬ এপ্রিল: হাঁসখালীর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার রানাঘাটের ধানতলায় এক ১৪ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণ করে মেরে ঘড়ের মধ্যে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল জামাইবাবু ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে নদিয়ার রানাঘাট ধানতলা থানা এলাকার চড়কতলায়। এই অভিযোগে এক মহিলা সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ধানতলা থানার পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরীকে প্রথমে মদ খাইয়ে তারপর তাকে গণধর্ষণ করে একটি ঘরের মধ্যে তালা বন্দি করে রাখা হয়। প্রথমে সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা থানায় জানানোর পর পুলিশ দেহ ময়না তদন্ত করে। এরপর পরিবারের থেকে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে পুনরায় অভিযোগ জানানো হয় এবং আজ দেহটিকে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা যায় পুলিশ সূত্রে। আজ ঘটনাস্থলে আসেন রানাঘাট জেলার পুলিশ সুপার সায়ক দাস সহ একাধিক পুলিশ কর্তা। তারা এসে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। এই ঘটনা খুন না আত্মহত্যা, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নির্যাতিতার মাসি বাসন্তী সরকার জানান, “গত সোমবার সন্ধ্যায় আনুমানিক ৬টার সময় নির্যাতিতার জামাইবাবু বাসুদেব সন্ন্যাসী তাকে নিয়ে গিয়েছিল তাদের বাড়িতে। সেখানে একটা মেলা হচ্ছিল। মেলায় অনেক লোকজন এসেছিল। বৃহস্পতিবার আমরা শুনতে পাই আমাদের মেয়েকে মদ খাইয়ে ধর্ষণ করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ওই বাড়ির সবাই জড়িত আছে। এখান থেকে তো ভালোভাবেই গেছে তাহলে ওখানে গিয়ে কেন গলায় দড়ি দেবে আমাদের মেয়ে? হয়তো ওখানে ওর ওপর কিছু হয়েছে তাই বাধ্য হয়ে ওরা ওকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত চাইছি যাতে সত্য ঘটনা উঠে আসে। ময়নাতদন্ত হয়েছে কিন্তু এটা আমরা মানছি না। তার জন্য আবার আমরা ময়না তদন্তের আবেদন করেছি।”
প্রতিবেশী সোনালী সরকার জানান, “মেয়ের স্বভাব চরিত্র কোনওদিনই খারাপ ছিল না। মেয়ে খুবই ভালো ছিল। সকালবেলা আমাদের সাথে একসাথে ফুল তুলতেও যেত। আমরা কোনদিনও ওর চরিত্রের দোষ খুঁজে পাইনি। ওর সাথে এরকম হবে এটা আমরা ধারণা করতে পারছিনা। শুনলাম সুইসাইড করেছে। আমি মনে করছি যারা মেয়েটাকে তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে তারাই দোষী। এদের সঠিক বিচার হোক।”
মৃত মেয়ের বাবা কুমুদ মৈত্র জানান, “আমার মেয়ে লোকের বাড়ি গিয়ে কি জন্য মারা গেল আমি সেই বিচার চাই। আমি চাই এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হোক। আমার মনে হচ্ছে ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমার মেয়েকে ওরা যদি শাসন করে তালা মেরে রাখে তাহলে আমাকে ফোন করেনি কেন? আমার বাড়ি তো আর বেশি দূরে নয়। যখন মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে তখনও ফোন করেনি। ওরা জানিয়েছে আমার মেয়ে সুইসাইড করেছে। আমার মেয়ে সুইসাইড করার মত মেয়ে নয়। পাড়ায় শুনুন আমার মেয়ের সম্বন্ধে কোনও বদনাম পাবেন না। আর যে জায়গায় সুইসাইড করেছে সেখানে আমার মেয়ের মতন তিন মানুষ হলেও ফ্যানটার নাগাল পাবে না। সেই ফ্যানে কি করে গলায় দড়ি দিল আমার মেয়ে? ওই জন্য আমার সন্দেহ হচ্ছে। ওরাই মেরে ঝুলিয়েছে।”
অপরদিকে অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, “নির্যাতিতা নিজেই কারুর সঙ্গে মদ খেয়েছিল। তাকে তারা শাসন করবার জন্য শুধুমাত্র ঘরে আটকে তালা দিয়েছিল। এরপর ঘর খুললে ওরা দেখতে পায় নির্যাতিতা ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে।”
অন্যদিকে আত্মীয় পাড়া প্রতিবেশীর দাবি, “যদি গলায় দড়ি দিত তাহলে গলায় কোনও ক্ষতের চিহ্ন নেই কেন? আর অত উঁচুতে ফ্যানের সঙ্গে কিভাবে ওইটুকু মেয়ে গলায় দড়ি দিতে পারে? কেনই বা মেয়েকে শাসন করার পর তার বাবা-মা পরিবারকে খবর দেওয়া হলো না? আর কেনই বা মৃত্যুর পর লোকমুখে শুনতে হলো তার বাবা-মাকে যে মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে?”

