আমাদের ভারত, ১১ জুলাই: পঞ্চায়েত ভোটের লাগাম ছাড়া হিংসা। তাই প্রাণসংশয়ের ভয়ে বাংলা থেকে পালিয়ে আসমে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন এই রাজ্যের ১৩৩ জন বাসিন্দা। গণনার দিন টুইট করে নিজেই তা জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। আশ্রয় দেওয়ার জন্য টুইট করে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কোনো নির্দিষ্ট জেলা নয়, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিন ভোর অশান্তি চলেছে গোটা রাজ্যে। ছাপ্পা ভোট হয়েছে। বাইক পুড়েছে, ঘরে আটকে রাখা হয়েছে, সর্বোপরি ৭ জেলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন কোচবিহার জেলায় যেভাবে বুথের মধ্যে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছে, সম্ভবত সেই ধরনের ঘটনার আতঙ্কের কারণেই বহু মানুষ অসমে আশ্রয় নিয়েছেন।
সোমবার পুনর্নির্বাচন হয়েছে ২২টি জেলার প্রায় ৭০০ বুথে। মঙ্গলবার যখন পঞ্চায়েত ভোটের গণনা চলছে তখনই টুইট করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটের হিংসার কারণে অসমের ধুবুরী জেলায় আশ্রয় চেয়েছিলেন ১৩৩ জন। আমরা তাদের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দিয়েছি। তাদের খাবার ও অসুধের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় অসমের অন্তর্গত ধুবুরীর পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, একটি স্কুলে ১৩৩ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে পুরো ঘটনাকে সাজানো বলে দাবি করা হয়েছে।
১৪৪ ধারা জারি করে ভোট কেন্দ্রে গণনা চলছে। এক কোম্পানি আধাসেনা জওয়ানদের পাহাড়া ও ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকায় পাহারায় মোতায়ের রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশ। কিন্তু তারপরেও গণনার দিনেও বাঁকুড়া সহ হিংসার ঘটনা ঘটে একাধিক জায়গায়।
পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার অভিযোগে দিল্লি থেকে বাংলায় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। হিংসা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখে সে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রিপোর্ট দেবেন নাড্ডাকে।

