পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৪ জানুয়ারি: আদিবাসীদের সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে পশ্চিম বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে অবরোধ শুরু হয়ে গেল। পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রথম শুরু হয়েছে জেলার ক্ষীরপাইয়ের হালদার এলাকায়। সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা আশঙ্কা করে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে বহু রুটের বেসরকারি বার পরিষেবা বন্ধ করে দিল। শীতের সকালে হয়রান যাত্রীরা।
বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঘাটালের হালদারদিঘী মোড় এলাকায় আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়ে যায় রাজ্য সড়কে। কর্মসূচির নাম “রোড চাকা জ্যাম”। বহু যানবাহন বন্ধ হয়ে যায় পরিস্থিতি বুঝে। সংগঠনের স্থানীয় নেতা মনোরঞ্জন মুর্মু জানান, “সাঁওতালি শিক্ষার বিভিন্ন দাবি নিয়ে এই অবরোধ কর্মসূচি। পৃথক সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড, হোস্টেল, স্কুল, স্থায়ী শিক্ষকের দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন। বহু আগে থেকেই আন্দোলন চলছে। আজকে ১২ ঘন্টার চাক্কা জাম কর্মসূচি। দাবি না মিটলে চলবে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত।”
জেলার অন্যান্য জায়গায় ধীরে ধীরে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হবে এমন আঁচ করে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডের দীঘা, লালগড়, ঝাড়গ্রাম, চন্দ্রকোনা রোড ও বিভিন্ন দূরের রোডগুলির বেসরকারি বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন দূরবর্তী স্থানে যেতে বেরিয়ে এসে বাসস্ট্যান্ডে হয়রান হয়ে যান যাত্রীরা। শুধুমাত্র গুটিকয়েক সরকারি বাস রাস্তায় বের হয়েছে।
বাস ওনার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কর্মী সুমন দাস বলেন, “সকালবেলা তবু বেশ কয়েকটি বাস বের হয়েছিল রাস্তায়। তারপরে বেশিরভাগ রুটের বাসগুলি তাদের যাতায়াত বন্ধ করে দিল। কয়েকটি সরকারি বাস রাস্তায় বের হয়েছে মাত্র।”
জঙ্গলমহলের চার জেলা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে সকাল ছ’টা থেকে এই অবরোধ চলছে। মূলত বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় সড়কগুলি অবরোধ করা হয়েছে, এর ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত এই চার জেলায়।

