উদাসীনতা! সীমান্তের পিকনিক স্পটে ১০ টাকার টিকিটেই মিলছে অসামাজিক কাজ করার ছাড়পত্র, প্রতিবাদে সরব হিলির সাড়ংবাড়ির বাসিন্দারা

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৬ ডিসেম্বর: প্রশাসনিক উদাসীনতায় সীমান্তের পিকনিক স্পট এখন সমাজবিরোধীদের দখলে। মাত্র ১০ টাকার টিকিট কেটেই মিলছে অসামাজিক কাজ করার সুরক্ষিত জায়গা। অভিযোগ, লোক চক্ষুর আড়ালে বেলাল্লাপনা থেকে মদ্যপান সবই চলছে ওই পিকনিক স্পটে। সকাল থেকে সন্ধ্যে এমন চিত্রই এখন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলির সাড়ংবাড়ি ফরেস্টে।

পিকনিকের মরশুম একরকম থাকলেও অন্য সময়েই ঘটছে এমন ঘটনা বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। সবুজে ঘেরা ওই ফরেস্টে মানসিক শান্তি পেতে অনেকেই ঢুঁ মারেন সাড়ংবাড়ি ফরেস্টে। ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই নিরিবিলি জায়গা হিসাবে বেছে নেন ওই ফরেস্টটিকে। কিন্তু প্রাকৃতিক ওই মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতেই ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে কিছু সমাজ বিরোধীরা বলেই অভিযোগ। দশ টাকার টিকিটের ছাড়পত্র নিয়েই বেশকিছুদিন ধরে চলছে সেই তান্ডব বলেও অভিযোগ। নজরদারির পরেও কিভাবে তার ভেতরে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে চরম উদাসীনতা ও গাফিলতির প্রশ্নে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সিসিটিভির পাশাপাশি নিরাপত্তা বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

হিলির ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তিওড়ের ওই সাড়ংবাড়ি ফরেস্টটি। যার পুরো তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি। সীমান্ত লাগোয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই ফরেস্টে পিকনিকের মরশুম তো বটেই, অনান্য সময়েও বহু মানুষের সমাগম ঘটে। শুধুমাত্র জেলা নয়, জেলার বাইরেরও প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে এই সাড়ংবাড়ি ফরেস্টে। যা দেখভালের জন্য তিনজন কর্মীকেও নিযুক্ত করা হয়েছে সেখানে। যে ফরেস্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১০ টাকার কুপনও ধার্য করা হয়েছে পঞ্চায়েত সমতির তরফে। অভিযোগ, যে টাকার বিনিময়ে একপ্রকার ছাড়পত্র নিয়েই ফরেস্টের ভেতরে অসামাজিক কাজ চালাচ্ছে সমাজবিরোধীরা। বিস্তৃর্ণ ফরেস্টে সেভাবে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চলছে অশ্লীল কাজকর্ম বলেও অভিযোগ। কিছু সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্যে সাড়ংবাড়ি ফরেস্ট যেন এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সাড়ংবাড়ি ফরেস্টে ঘুরতে আসা বিমান কৃষ্ণ শীল ও মনোজিত মহন্তরা বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য অনুভব করতে মাঝে মধ্যেই এখানে আসেন। দশ টাকার টিকিট কেটেই তাদের ভেতরে ঢুকতে হয়। কিন্তু এর ভেতরে কিছু দৃশ্য দেখে তারাও অবাক হয়ে যান। পিকনিকের সময় তো বটেই অনান্য সময়েও প্রকাশ্যে চলে মদ্যপান ও নানা অসামাজিক কাজ। অনেকেই পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসেন, যাদের কাছে খুবই বিরক্তিকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এসব বন্ধ হওয়া উচিত এবং নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে এই এলাকায় সিসিটিভি লাগানো উচিত।

সাড়ংবাড়ি ফরেস্ট রক্ষনাবেক্ষনের কাজে নিযুক্ত এক কর্মী অজয় শীল বলেন, ১০ টাকার টিকিট কেটেই প্রত্যেককে ঢুকতে হয়। তবে সেরকম কোনো নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় তারা তিনজন কর্মীই টিকিট কাটা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করেন। পিকনিকের সময় আলাদাভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও অনান্য সময় তা থাকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *