আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৮ জানুয়ারি: বীজপুর থানার হালিশহর কোনা মোড়ে গঙ্গার জগন্নাথ ঘাটের ধারে বৃহস্পতিবার বিকেলে বোমা বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম সুমিত সিং (১৯)। তাঁর দেহ ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর দুই যুবককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আহত আরও তিন- চারজন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিকট শব্দ শুনে তারা ঘাটের পাশে ছুটে যান। সেখানে তারা কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার তদন্তে যান বীজপুর থানার পুলিশ ও ডিসি নর্থ শ্রীহরি পান্ডে-সহ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধিকারিকরা। স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল সিং জানান, বিকট শব্দ পেয়ে ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখান থেকে কাকার ছেলে সুমিত সিংয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিজের ভাই রোহিত সিং ও তার বন্ধু রোহিত চৌধুরীর খোঁজ মেলেনি। তবে ধপধপ করে দুজনকে গঙ্গায় পড়তে দেখেছেন।
পরপর দুটি বোমা ফেটে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, কতজন আহত এখনও পরিষ্কার নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যায় এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বিট্টু জয়সওয়াল ও তার এক সঙ্গী। অভিযোগ, বোমা বিস্ফোরণে কিছু পরে এই অভিযুক্তকে গঙ্গার ধার দিয়ে পালাতে দেখে তখন তাকে এলাকা বাসীরা ধরে ফেলে। এরপর গণ ধোলাই দেওয়ার পর তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী এই অভিযুক্ত বিট্টু জয়সওয়ালসাংসদ অর্জুন সিং ঘনিষ্ট বলে পরিচিত।
ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। তিনি বিজেপির ওপর সমস্ত ঘটনার দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে অভিযোগ করে বলেন, “অর্জুন সিং ঘনিষ্ট বিট্টু জয়সওয়াল স্তূপীকৃত বোমা মাটির তলায় জমা করে রেখেছিল। সামনে পৌর নির্বাচন তাই হয়ত এলাকা অশান্ত করার উদ্যেশ্য রেখেছিল।”

অন্যদিকে, এই ঘটনার তদন্ত ভার এনআইএকে দেওয়া দাবি করলেন সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “এনআইএ কে এই ঘটনার তদন্ত ভার দেওয়া হোক তার দাবি জানাচ্ছি, আমি এই সম্পূর্ণ ঘটনা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করব। এর আগেও নৈহাটিতে বাজি কারখানার নাম করে বিস্ফোরণ হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল বাজি কুটির শিল্প, তাহলে এখন কি বলবে রাজ্য পুলিশ। বিজেপিকে দোষ দেওয়া হচ্ছে কারন যাকে ধরা হয়েছে সে বিজেপি কর্মী কিন্তু সে আহতদের উদ্ধার করতে গেছিল। আর কেউ কি নিজের বাড়ির সামনে বোমা লুকিয়ে রাখে।”

