পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
১৬ আগস্ট: কাউকে ডাইনি অপবাদে গ্রামছাড়া করা, সালিশি সভা বসাহো, গণৎকারের গণনা করে নাম বলে চোর ধরা এই সব কাজ সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও গণৎকার গণনা করে বলে দিয়েছে দোষীর নাম, তাই নিয়ে দাসপুরের চাঁইপাটের চাকিরহাটে বসে গেল সালিশি সভা। আর সেই সভায় এক দু’ টাকা নয় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন গ্রামের মোড়লরা। যা শুনে কার্যত চক্ষু চরকগাছ! এমন কি টাকা দিতে বাধ্য হবে বলে সাদা কাগজে অভিযুক্ত পরিবারের সই করে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাড়ির সম্পত্তির দলিল নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এক দুটো লোক নয়, সাক্ষী ছিল গ্রাম শুদ্ধ লোক। শয়ে শয়ে লোক নাকি হাজির ছিল সেই সভায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দাশপুর পুলিশের সাহায্য চাইলে পুলিশ তাদের বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ। বরং সব শুনে ওদের সঙ্গে মীমাংসা করে নিতে পরামর্শ দিয়েছেন দাসপুরের পুলিশ আধিকারিক। যেখানে ঘাটালের এসডিও সুমন বিশ্বাস রাজ্য সরকারের মুখ উজ্জ্বল করবার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা রাস্তাঘাট পঞ্চায়েত উন্নয়ন ও তদারকি নিয়ে নিবিড় তৎপরতায় মগ্ন, রাজ্যের কৃষ্টি সংস্কৃতি ঐতিহ্যের সঙ্গে ঘাটাল মহকুমার যুব সমাজকে নানাভাবে উৎসাহিত করতে ব্যস্ত আছেন তখন দাসপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রীয়তার অভিযোগ উঠলো ভয়ংকর ভাবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ শে জুলাই। ওই দিন রাত সাড়ে ন’টার পর চাকীরহাটে কাশীনাথ চাকীর শ্রীহরি ডেকোরেটর্সে আগুন লেগে যায়। ক্ষতি হয় অনেকটাই। পুলিশ এসেও কিভাবে আগুন লাগলো তা বুঝতে পারেনি। মালিকও বুঝতে পারেনি কি কারণে আগুন লেগেছে। ফলে তারা পূর্ব মেদিনীপুরের পালপাড়ায় সুকুমার মাইতির কাছে গণনা করতে যায়। সেখানে গণৎকার সুকুমার মাইতি, ডলফিন ডেকোরেটর্সের মালিক তারকনাথ আড়ির (৭০) নাম বলে এমনই দাবি কাশীনাথ চাকী সহ মোড়লদের। তারপরই তারকনাথের উপর নানা ভাবে চাপ তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গত ৬ আগস্ট সন্ধে থেকে তারকনাথ ও তার দুই ছেলে ও ৯ মাসের শিশুর মা দিপালীর উপর প্রকাশ্যে জুলুম ও মারধর শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শয়ে শয়ে লোকের সামনে জোর করে স্বীকার করানোর দাবি করে। সাদা কাগজে সই করে দলিল কেড়ে নিয়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়।
আক্রান্তরা ওখান থেকেই পুলিশকে জানালে পুলিশ ফের খোঁজ নিলে অন্যতম মোড়ল গোবিন্দ মাইতি, রামপদ সামন্ত, কাশীনাথ আড়ি প্রমুখরা চীৎকার করে হুঁশিয়ারি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা দোষীদের ঘর বাড়ি সম্পত্তি জোর করে দখল নিয়ে টাকা আদায় নেবে বলেও অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার রাত বারোটা নাগাদ অভিযুক্তদের ছাড়া হলে তারা দাসপুর থানায় ফের যায়। কিন্তু অভিযোগ করতে গেলে লিখিত কোনো অভিযোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বরং বেআইনি সালিশি সভাকে মদত দিচ্ছে পুলিশ বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিযুক্তরা।
অবশ্য কেউ কেউ টিপ্পনী কেটে বলছেন, পুলিশের তৎপরতা যত কম হবে রাজ্য সরকারের ক্ষতি হবে তত বেশি। পুলিশ অবশ্যই চাইছে না দুর্নীতির স্বর্গ রাজ্য এই সরকারটা থাকুক। তাই ঘটনা ঠিক নয় জেনেও তারা এড়িয়ে গেলেন সবটাই। এখন প্রশ্ন হল, সালিশি সভা এত টাকা জরিমানা করতে পারে কি? তাহলে থানা পুলিশ আদালত তো তুলে দেওয়াই উচিত? প্রবল চাপে রাতে আড়ি পরিবার প্রাণ রক্ষার দায়ে সবাইকে নিয়ে ঘর ছাড়ে। ঘর তালা দেওয়া অবস্থায় রয়েছে।
ঘাটালের এসডিপিও অভিযোগটি গ্রহণ করেন। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বাড়িছাড়া তারাক মাতাড় দুই ছেলে সহ পুরো পরিবার। অন্যদিকে গ্রামের মোড়রা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।

