পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে ভুয়ো ‘মহামন্ত্রী’ লেখা গাড়ি ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৮ অক্টোবর: অস্ত্র ও ভুয়ো বিজেপির ‘মহামন্ত্রী’ স্টিকার লাগানো গাড়ি সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার পুলিশ। ভুয়ো আইএএস, আইপিএসের পর এবার ভুয়ো মহামন্ত্রী ধরা পড়ল। আজ ধৃতদের জেলা আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল সাড়ে
৫ টা নাগাদ পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানায় নান্না গ্রামের বাসিন্দা কৃত্তিবাস সিংহ মহাপাত্র জানান, তার বাড়িতে ঝাড়খণ্ডের কয়েকজন লোক এসে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ছেলে তুফান সিংহ মহাপাত্রকে হুমকি দিচ্ছে। তুফান সিংহ মহাপত্র পেশায় ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলার ঠিকাদার। খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখে ঘটনাস্থলে ৫ জন যুবক রয়েছে, তাদের মধ্যে ২ জনের হাতে ২টি অস্ত্র রয়েছে। তার মধ্যে ১টি বড়ো রাইফেল ও ১টি পিস্তল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা বিজেপির মহামন্ত্রী বলে হুমকী দেয়। সেখানে পাশেই একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়ি দেখতে পায় পুলিশ। গাড়িতে ৩ টি স্টিকার লাগানো ছিল। তার মধ্যে ১টি বিজেপির লোগো লাগানো স্টিকার ও একটি মহামন্ত্রী ভারতীয় জনতা পার্টির স্টিকার লাগানো গাড়ি সহ ৫ জনকে থানায় নিয়ে যায় বান্দোয়ান থানার পুলিশ। প্রসঙ্গত, রাজ্য সাধারণ সম্পাদককে হিন্দিতে মহামন্ত্রী বলে বিজেপি।

নান্না গ্রামের বাসিন্দা তুফান সিংহ মহাপাত্র অভিযোগ করেন, ঘাটশিলা থানার বাসিন্দা তুষার দত্ত সহ এই ৫ জন এসে দেড় লক্ষ টাকার তোলা চেয়ে হুমকি দিতে থাকে। এমনকি মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তুফানবাবু। এর আগেও তুফানের কাছে ৩ লক্ষ টাকার একটি চেক নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলির বৈধ লাইসেন্স দেখতে চায়, কিন্তু পুলিশকে কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারপরেই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে ১টি গুলি ভর্তি পিস্তল ও ১ টি গুলি ভর্তি রাইফেল বাজেয়াপ্ত করে। ধৃতদের নাম তুষার দত্ত, সত্যজিৎ অধিকারী, তপন হরি, দেবাশীষ দত্ত এবং রাজেশ কুমার। প্রথম ৪ জনের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা থানার কাসিডা গ্রামে। অন্য জনের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের জাদুগরা থানার তেতুলডাঙা কপার মেন রোড এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে ৪৮৪/৩৮৬/৩২৩/৫০৬/১২০ বি ও ২৫/২৭ অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তল জানান, ধৃতদের মধ্যে ২ জনের তিন দিনের পুলিশ হেফাজত হয়। তাদের মধ্যে কেউ বিজেপির কোনও পদে আছে কি না তা জানার চেষ্টা চলছে।

বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিজেপির কোনও কার্যকর্তা এই ধরনের কাজ করতে পারেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরাও ঝাড়খন্ড সংগঠনের সঙ্গে কথা বলছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *