পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২ মার্চ: শেখর দাশগুপ্তের দলবদল নিয়ে রাতারাতি ভোলবদল বালুরঘাট টাউন তৃণমূল সভাপতির। জেলা নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে এখন দল না ছাড়ার সিদ্ধান্ত শ্যামল লাহার। মঙ্গলবার বিকেলে বালুরঘাটের জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দলীয় নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে তাকে অন্ধকারে রাখবার কথা বলেন শহর তৃণমূল সভাপতি, যাকে ঘিরে উস্কে ওঠে জেলা নেতৃত্বদের সাথে দলের অনান্য নেতৃত্বদের মতানৈক্য। সামনে আসে দলের অভ্যন্তরীন ক্ষোভের বিষয়ও। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই নিয়ে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির। দলের অভ্যন্তরীন বিষয় সাংবাদিক বৈঠক ডেকে প্রকাশ্যে আনায় ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ দলের জেলা সভাপতিও।
উল্লেখ্য সোমবার রাতে জেলা সভাপতি গৌতম দাস এবং চেয়ারম্যান বিপ্লব মিত্রের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন বালুরঘাটের বিশিষ্ট আইনজীবী শেখর দাশগুপ্ত। যোগদান কর্মসূচি বালুরঘাটে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে হবার কথা থাকলেও শঙ্কর অনুগামীদের বিক্ষোভের কারণে রাস্তার উপর দাড়িয়েই কংগ্রেস ছেড়ে আসা ওই নেতার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলা নেতারা। কেন এমন হঠাৎ করে শেখর দাশগুপ্ত নামে ওই আইনজীবীকে দলে নেওয়া হচ্ছে তার প্রতিবাদ জানান খোদ টাউন তৃণমূল সভাপতি শ্যামল লাহা। সাংবাদিকদের সামনে দল থেকে পদত্যাগ করার কথাও ওইদিন রাতে জানান তিনি। তারপরেই মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি তাঁর ভুল স্বীকার করে দলে থাকার বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনা নিয়ে জেলা নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে তাকে অন্ধকারে রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বালুরঘাট টাউন তৃণমূল সভাপতি শ্যামল লাহা জানিয়েছেন, তিনি ভুল করেই উত্তেজিত হয়ে উঠে দল ছাড়ার কথা বলেছিলেন। তিনি দলেই থাকছেন। দলের নির্দেশ মেনেই কাজ করবেন। তবে কালকের ঘটনা তাঁকে জেলা নেতারা অন্ধকারে রাখবার কারনেই ঘটেছে।
জেলা তৃণমূলের সভাপতি গৌতম দাস জানিয়েছেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় সংবাদমাধ্যমের কাছে না জানালেই পারতেন। আসলে দলের প্রতি টাউন সভাপতি শ্যামল লাহার বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে, যে কারণেই এমন টা হয়েছে। তবে একথা সত্যি ওই যোগদানের বিষয় তাঁকে জানানো হয়নি।

