জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৩ এপ্রিল: ‘কোভিড মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার ব্যার্থ। হু’র সতর্কতা স্বত্বেও অতিরিক্ত অক্সিজেন উৎপাদন করেনি। বাংলা দখল করতে গিয়ে কোভিড সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।” শুক্রবার দুর্গাপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলায় অক্সিজেনের অভাব করতে বাংলা থেকে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে যাচ্ছে। এটা চলবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি।”
শুক্রবার দুর্গাপুরে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি আগাগোড়া কেন্দ্র সরকার, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে এক কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কড়া আক্রমন করেন। তিনি কেন্দ্রের ওপর দোষ চাপিয়ে বলেন, “কোভিড মোকাবিলায় চরম গাফিলাতি রয়েছে কেন্দ্রের। ব্যর্থ কেন্দ্র সরকার। রাজনীতি করতে চাই না। গত ২০২০ সালে ‘হু’ অতিরিক্ত অক্সিজেন উৎপাদন করতে নির্দেশ দিয়েছিল। তারপরও তা করেনি। দেশে কোভিড মেডিসিনের হাহাকার। ৬৫ শতাংশ কোভিড মেডিসিন অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। গুজরাটে পার্টি অফিসে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ৬০ শতাংশ ভ্যাকসিন গুজরাটে দেওয়া হয়। সেজায়গায় অন্যান্য রাজ্যকে ১৫-২০ শতাংশ দেওয়া হয়।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “দেড়’শ টাকা ভ্যাকসিনের দাম হলে ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সারা দেশে ভ্যাকসিন হয়ে যেত।মূর্তি তৈরী করতে খরচ করে। পিএম কেয়ারে ফান্ডে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা উঠেছে। সেখান থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে দিতে পারত।” তিনি আরও বলেন,” কেন্দ্র সরকারের গাফিলাতির জন্য দেশে কোভিডের ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কোনও মিটিংয়ে বলে না। আজও একটা মিটিং হচ্ছে। আমাদের ডাকা হয়নি। যে দশটি রাজ্যে বেশী হয়েছে, তাদের নিয়ে মিটিং হচ্ছে।”
দেশজুড়ে অক্সিজেনের সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। দুর্গাপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত সেইল থেকে উত্তরপ্রদেশে বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে অক্সিজেন যাচ্ছে। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রকে কড়া আক্রমন করে তিনি বলেন, “বাংলায় অক্সিজেন জোগান দিত সেইল। সেখান থেকে কাটছাট করে উত্তরপ্রদেশকে অক্সিজেন দিচ্ছে।” তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিটে যে অক্সিজেন জোগান হত, সেটা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শিফট করা হয়েছে। ১৫ হাজার আগে ছিল, আরও ৫ হাজার সিলিন্ডার নেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “কেন্দ্র সরকার বাংলাকে ভাতে মারতে চায়। পাতে মারতে চায়। বাংলায় অক্সিজেনের অভাব করতে বাংলা থেকে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে যাচ্ছে। এটা চলবে না। আমি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি।”
এই প্রসঙ্গে দুর্গাপুরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উনি ক্লাব খয়রাতিতে ৯০০ কোটি টাকা দেন। পুজোয় অনুদান ১৮৫ কোটি। একটা অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরী করতে ১৪০ কোটি লাগে। কেন অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরী করেননি? ওই টাকায় অনেক অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরী হত।”
বিজেপির দুর্গাপুর পুর্বের প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনে হেরে যাবে। তাই এধরনের কথা বলছেন তৃণমূল নেত্রী। কেন্দ্রের কোনও মিটিংয়ে উনি যান না। কোভিড নিয়ে রাজনীতি করছেন। কেন্দ্র কখনই বাংলাকে বঞ্চনা করে না।” তিনি আরও বলেন, “মমতা ব্যানার্জির যত দরদ বাংলাদেশ, পাকিস্তানের জন্য। পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য দরদ থাকলে আয়ুষ্মান কার্ড কেন বিলি করতে দেননি? কেন কৃষক সম্মান নিধির আবেদন জমা দিতে দেননি?”
এদিন মমতা ব্যানার্জি নাম না করে পান্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারীকে আক্রমন করেন। তিনি বলেন, “পান্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। অতীতে জনতার কাজ করতে গিয়ে কামিয়েছে।” যদিও এবিষয়ে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, “দিদি যেটা বলবেন, সেটাই আশীর্বাদ।”
গতকাল ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে জগদ্দল বিধানসভার ঘটনা টেনে বলেন,” আগুন নিয়ে খেলা করবেন না। আমাদের ৭ এজেন্টকে অপহরণ করা হয়েছিল। একটা গুলিও চালিয়েছে। স্পষ্ট বলছি, যে বা যারা গুলি চালিয়েছে তদন্ত হবে। গুলি চালানো সমর্থন করি না।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি কয়েক জায়গা ভোটারদের ভোট দিতে নিষেধ করছে। ভোটদান গনতান্ত্রিক অধিকার, নাগরিক অধিকার, বাংলা বাঁচানোর অধিকার। তাই সবাই ভোটটা দেবেন।”

